মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩, ০১:২৫ অপরাহ্ন

১৪২ বছরের ইতিহাসে জুলাই সবচেয়ে উষ্ণতম মাস

রিপোটারের নাম
প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

 ডেস্ক রিপোর্ট

১৪২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম মাস ছিল ২০২১ সালের জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন।

জুলাই ঐতিহাসিক ভাবেই বছরের উষ্ণতম মাস। তার ওপর এ বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তাপদাহের তীব্রতা অস্বাভাবিক বেশি ছিল। গত মাসে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ছিল ১৬.৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

২০২০ সালের রেকর্ডকে ০.০১ সেলসিয়াসের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়েছে এ বছরের জুলাইয়ের তাপমাত্রা। গত ১৪২ বছর ধরে বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড রাখা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। যার মধ্যে এবারের জুলাই মাস ছিল বিশ্বের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস।

রেকর্ডের ইতিহাসে গত সাত বছরের (২০১৫-২০২১) জুলাইয়ের উষ্ণতা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এমন তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওসেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিসট্রেশনের (এনওএএ) আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ আহিরা সানচেজ-লুগো। বিংশ শতাব্দীর জুলাই মাসের গড় তাপমাত্রার চেয়ে এ বছরের জুলাইয়ের তাপমাত্রা ০.৯৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

তাপমাত্রার তালিকায় প্রথম স্থানই সবচেয়ে খারাপ অবস্থান, এমনটিই বলছেন এনওএএ এর প্রধান রিক স্পিনার্ড। সংবাদমাধ্যমের জন্য দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন পৃথিবীকে যে ধ্বংসাত্মক পথে নিয়ে যাবে তারই একটি নমুনা এ নতুন রেকর্ড।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলাফল লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে। তাপদাহ, বন্যা, খরা ও দাবানলে নাকাল পৃথিবীর অনেক দেশ। কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না আলজেরিয়ার দাবানল। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, গ্রিসের সাথে ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে উত্তর আফ্রিকার এ দেশটির দাবানল পরিস্থিতি।

অন্যদিকে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে দাবানল পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও রেখে গেছে ধ্বংসের ছাপ। আগুনে পুড়ে গেছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় এভিয়া দ্বীপের ৫০ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনভূমি।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তরাঞ্চলেও নতুন করে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতালিজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র দাবদাহ। ইতালির সিসিলি দ্বীপের লুসিফায় কয়দিন আগে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ। রাশিয়াতেও দাবানলে কারণে সাইবেরিয়ার এক হাজারের বেশি গ্রামে মারাত্মক বায়ু দূষণ দেখা দিয়েছে।

এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবকে দুষছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের একটি দল সতর্কবাণী দিয়েছেন, মানুষ তেল, গ্যাস, কয়লার ব্যবহার না কমালে জলবায়ু পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ